Tuesday, May 27, 2014

নামাজের অবিশ্বাস্য উপকারিতা

১/ নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিস্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের স্মৃতি শক্তি অনেকবৃদ্ধি পায়।

২/ নামাজের যখন আমরা দাড়াই তখন আমাদের চোখ জায় নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

৩/ নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।

৪/ নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারন পরিবর্তন আসে।

৫ নামাজ সকল মানুষের দেহের কাঠামো বজায় রাখে। ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।

৬/ নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে যেমন ওজুর সময় আমাদের দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার করা হয় এর ফলে বিভিন্ন প্রকার জীবানু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি।

৭/ নামাজে ওজুর সময় মুখমন্ডল ৩বার ধৌত করার ফল আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।

৮/ ওজুর সময় মুখমন্ডল যেভাবে পরিস্কার করা হয় তাতে আমাদের মুখে একপ্রকার মেসেস তৈরি হয় ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা কমে যায়।

৯/ কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ সে বিরত থাকে।

১০/ নামাজ আদায় করলে মানুষের জীবনি শক্তি বৃদ্ধি পায়।

১১/ কেবল মাত্র নামাজের মাধ্যমেই চোখের নিয়ম মত যত্ন নেওয়া হয় ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায় কারী মানুষের দৃষ্টি শক্তি বজায় থাকে।

দেহের ইলেকট্রো- ম্যাগনেটিক তরঙ্গ নিষ্ক্রিয় করার উৎকৃষ্ট উপায় হলো '' সিজদা ''

মানুষের শরীর প্রতিদিন বিপুল পরিমান ইলেকট্রো- ম্যাগনেটিক তরঙ্গ গ্রহণ করে , যার উৎস ইলেকট্রিক বাতি, মোবাইল , রেডিও , ক্যালকুলেটর, রিমোট কন্ট্রোল, গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ইত্যাদি ।

যার ফলে মাথা ব্যাথা, শরীর ব্যাথা, অসস্থি , আলস্য, এমনকি মরণ ব্যাধি ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । তাই মুক্তির শেষ ও এক মাত্র পথ হচ্ছে নামাজ !

সালাতুল তাসবিহঃ

হযরত ইবনে আব্বাস(রাঃ) বলেন, রাসুল(সাঃ) হযরত ইবনে আব্বাস(রাঃ) কে বলেন, “হে আব্বাস, আমার চাচা আমি কি আপনাকে একটি দান বা বকশিশ দিব, আপনার সামনে একটি তফফা পেশ করব, আমি কি আপনাকে এমন একটি আমল বলে দিব যা পালন করলে আপনি ১০ টি উপকার লাভ করবেন অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আপনার অতিত- ভবিষ্যতের, নতুন-পুরাতন, ভুলে বা জেনেশুনে, ছোট – বড়, গোপনে বা প্রকাশে করা সকল গুনাহ এ মাফ করে দিবেন।সেই আমল হল আপনি ৪রাকাত সালাতুল তাসবিহ আদায় করবেন। যদি আপনার দ্বারা সম্ভব হয় তবে প্রতিদিন একবার এই নামাজ পরবেন, যদি প্রতিদিন পরতে না পারেন তবে প্রত্যেক জুমার দিন, আর সেটাও সম্ভব না হলে বছরে একবার এই নামাজ পরবেন। আর সেটাও সম্ভব না হলে জীবনে একবার হলেও পরে নেবেন”।

সালাতুল তাসবিহ পড়ার নিয়ম – হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক(রাঃ) ও অন্যান্য ওলামা হতে এই নামাজের ফজিলত নকল করা হয়েছে এবং তাদের নিকট হতে এই তরিকা বর্ণনা করা হয়েছে- “ছানা পড়ার পর এই কালেমা গুলি ১৫ বার – সুবহানাল্লহি ওআল হামদুলিল্লাহি ওআলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর পরবেন, অতঃপর আউজুবিল্লাহ, বিছমিল্লাহ, সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা মিলানোর পর রুকুতে যাওয়ার পূর্বে ১০বার পরবেন, রুকুতে গিয়ে ১০বার পরবেন, রুকু থেকে উঠে ১০বার, সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ পড়ার পর ১০ বার,বসে ১০ বার এবং আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ পড়ার পর ১০ বার পরবেন, এভাবে ৭৫ বার পড়া হয়ে গেল, তারপর দাড়িয়ে সুরা ফাতিহা পড়ার পূর্বে ১৫ বার পরে পূর্বের নিয়মে পরে হবে। যদি কোন জায়গায় সংখ্যা কম হয়ে যায় বা ভুলে যাওয়া হয় তবে পরবর্তী রুকুনে তা আদায় করতে হবে। আর ২ সিজদার মাঝখানে বা রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর দাড়িয়ে ভুলে যাওয়া তাসবিহ আদায় না করা। যদি নামাজে সহু সিজদাহ দিতে হয় তবে সহু সিজদার মাঝে এই তাসবিহ গুলা পড়া লাগবেনা। তবে যদি কোন কিছুর রাকাত ভুলে যাওয়া হয় তবে সেখানে আদায় করলে চলবে। এই তাসবিহ গুলা পড়ার সময় আঙ্গুলে গোনা যাবেনা। তবে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিয়ে সংখ্যা কে মনে রাখা যেতে পারে।

ইস্তিখারা কি ও এর গুরুত্ব

ইস্তিখারা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। ইস্তেখারা শব্দটি আরবী। আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থ কল্যাণ প্রার্থনা বা কোন বিষয়ে কল্যাণ চাওয়া। ইসলামী পরিভাষায়: দুরাকাত নামায ও বিশেষ দুয়ার মাধ্যমে আল্লাহর তায়ালার নিকট পছন্দনীয় বিষয়ে মন ধাবিত হওয়ার জন্য আশা করা। অর্থাৎ দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনটি অধিক কল্যাণকর হবে এ ব্যাপারে আল্লাহর নিকট দু রাকায়াত সালাত ও ইস্তিখারার দুয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার নামই ইস্তেখারা। (ইবনে হাজার, ফাতহুল বারী শরহু সহীহিল বুখারী)

ইস্তেখারা করার হুকুম: এটি সুন্নাত। যা সহীহ বুখারীর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন: “সে ব্যক্তি অনুতপ্ত হবে না যে স্রষ্টার নিকট ইস্তিখারা করে এবং মানুষের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার উপর অটল থাকে।” আল্লাহ তায়ালা বলেন:

“আর তুমি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের সাথে পরমর্শ কর। অত:পর আল্লাহর উপর ভরসা করে (সিদ্ধান্তে অটল থাক) | আল্লাহ ভরসাকারীদেরকে পছন্দ করেন।“ (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)

কাতাদা(রহ:) বলেন: “মানুষ যখন আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরষ্পরে পরামর্শ করে তখন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সব চেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছার তওফীক দেন।”

ইমাম নওবী রহ. বলেন: “আল্লাহ তায়ালার নিকট ইস্তেখারা করার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ভাল লোকদের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার। কারণ, মানুষের জ্ঞান-গরীমা অপূর্ণ। সৃষ্টিগতভাবে সে দূর্বল। তাই যখন তার সামনে একাধিক বিষয় উপস্থিত হয় তখন কি করবে না করবে, বা কি সিদ্ধান্ত নিবে তাতে দ্বিধায় পড়ে যায়।”

কখন ইস্তিখারা করতে হয়:

হাদিস শরীফে এরূপ ইস্তিখারা করার প্রতি বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। মানুষ বিভিন্ন সময় একাধিক বিষয়ের মধ্যে কোনটিকে গ্রহণ করবে সে ব্যাপারে দ্বিধা-দন্ধে পড়ে যায়। কারণ, কোথায় তার কল্যাণ নিহীত আছে সে ব্যাপারে কারো জ্ঞান নাই। তাই সঠিক সিদ্ধান্তে উপণিত হওয়ার জন্য আসমান জমীনের সৃষ্টিকর্তা, অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত সকল বিষয়ে যার সম্যক জ্ঞান আছে, যার হাতে সকল ভাল-মন্দের চাবী-কাঠি সেই মহান আল্লাহর তায়ালার নিকট উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়। যেন তিনি তার মনের সিদ্ধান্তকে এমন জিনিসের উপর স্থীর করে দেন যা তার জন্য উপকারী। যার ফলে তাকে পরবর্তীতে আফসোস করতে না হয়। যেমন, বিয়ে, চাকরী, সফর ব্যবসা-বাণিজ্য, সহায়-সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, গাড়ি-বাড়ি নির্মাণ ইত্যাদি জায়েয কাজ ইস্তেখারা করেই আরম্ভ করা উত্তম। যদি কোনো কারণে ইস্তিখারার নামাজ পড়তে না পারে, তবে ইস্তিখারার দোয়াটি কয়েকবার পড়ে নেবে। তবুও ইস্তিখারা ছাড়বে না।

ইস্তিখারা করার নিয়ম বা পদ্ধতি:

১) নামাযের ওযুর মত করে ওযু করতে হয়।

২) ইস্তিখারার উদ্দেশ্যে দু রাকায়াত নামায পড়তে হয়। এ ক্ষেত্রে সুন্নত হল, প্রথম রাকায়াতে সূরা ফাতিহার পর কুল আইয়োহাল কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাকায়াতে সূরা ফাতিহার পর কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ পড়া।

৩) নামাযের সালাম ফিরিয়ে আল্লাহ তায়ালা বড়ত্ব, ও মর্যাদার কথা মনে জাগ্রত করে একান্ত বিনয় ও নম্রতা সহকারে আল্লাহর প্রশংসা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দুরূদ পেশ করার পর ইস্তেখারার দুয়াটি পাঠ করা ।

হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) আমাদিগকে আমাদের কাজকর্মের ব্যাপারে ইস্তিখারা করিবার তরীকা এরুপ গুরুত্বসহকারে শিক্ষা দিতেন যেরুপ গুরুত্ব সহকারে আমাদিগকে কুরআন মজীদের কোন সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেহ কোন কাজ করিবার ইচ্ছা করে (আর সে উহার পরিণতি সম্পর্কে চিন্তিত হয়, তখন তাহার এইভাবে ইস্তেখারা করা উচিত যে,) সে প্রথমে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে, এরপর এইভাবে দোয়া করবে -اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ ارْضِنِي بِهِ

অর্থ: হে আ্ল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার ইলমের মাধ্যমে কল্যাণ কামনা করি, আপনার কুদরত দ্বারা শক্তি চাই, এবং আপনার নিকট আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করি । কেননা আপনি প্রত্যেক কাজের কুদরত ও ক্ষমতা রাখেন আর আমি কোন কাজের ক্ষমতা রাখি না । আপনি সবকিছু জানেন, আর আমি কিছুই জানি না এবং আপনিই সমস্ত গোপন বিষয়কে অতি উত্তমরুপে জানেন । আয় আল্লাহ, যদি আপনার এলেম অনুযায়ী এই কাজ আমার দ্বীন, আমার দুনিয়া ও পরিণতি হিসাবে আমার জন্য কল্যাণকর হয় তবে উহা আমার জন্য নির্ধারিত করিয় দিন এবং সহজ করিয়া দিন, অত:পর উহার মধ্যে আমার জন্য বরকতও দান করুন । আর যদি আপনার এলেম অনুযায়ী এই কাজ আমার দ্বীন, আমার দুনিয়া ও পরিণতি হিসাবে আমার জন্য কল্যাণকর না হয় তবে এই কাজকে আমার নিকট হইতে পৃথক রাখুন এবং আমাকে উহা হইতে বিরত রাখুন এবং যেখানে যে কাজেই আমরা জন্য কল্যাণ থাকে তাহা আমাকে নসীব করুন । অত:পর আমাকে সেই কাজের উপর সন্ত্তষ্ট নিশ্চিন্ত করিয়া দিন । বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহাও এরশাদ করিয়াছেন যে, দোয়ার মধ্যে নিজের প্রয়োজনের নাম লইবে । (বোখারী)

উদাহরণ স্বরুপ সফরের জন্য ইস্তেখারা করিতে হইলে “হাযাস সফর” বলিবে । আর বিবাহের জন্য ইস্তেখারা করিতে হইলে “হাযান নিকাহা” বলিবে । যদি আরবীতে বলিতে না পারে তবে দোয়ার মধ্যে যখন উভয় স্থানে “হাযাল আমরা” পর্যন্ত পৌঁছিবে তখন নিজের যে প্রয়োজনের জন্য ইস্তেখারা করিতেছে

সালামের পর বর্ণিত যিক্‌র

«استغفر الله استغفر الله استغفر الله»

«اللهم أنت السلام ومنك السلام تباركت يا ذا الجلال والإكرام» (رواه مسلم)

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ (তিনবার)
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (তিনবার)

আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম। (মুসলিম)

অর্থ:হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময়, আর তুমিই শান্তির উৎস। হে মহামহিম ও সম্মানের অধিকারী মহিমান্বিত তুমি।

«لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيءٍ قدير»

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর। (তিনবার) (বুখারী - মুসলিম)

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

«لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير، اللهم لا مانع لما أعطيت، ولا معطي لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد» (رواه البخاري ومسلم)

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওলাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর। আল্লাহুম্মা লা মানি‘য়া লিমা আ‘ত্বইতা ওয়ালা মু‘ত্বিয়া লিমা মানা‘তা ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। (বুখারী - মুসলিম)

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

হে আল্লাহ্! তুমি যে দান কর তা বন্ধ করার কেউ নেই আর তুমি যা বন্ধ রাখ তা দানকারী কেউ নেই। কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সম্মান কাজে আসবে না, তোমার নিকটেই প্রকৃত সম্মান।

«لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك، وله الحمد وهو على كل شيء قدير، لا حول ولا قوّة إلا بالله، لا إله إلا الله، ولا نعبد إلا إيّاه، له النعمة وله الفضل وله الثناء الحسن، لا إله إلا الله مخلصين له الدين ولو كره الكافرون» (رواه مسلم)

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়ালা না‘বুদু ইল্লা ইয়্যাহু, লাহুন নি‘মাতু ওয়ালাহুল ফাদলু ওয়ালাহুস সানাউল হাসানু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদদ্বীনা ওয়ালাউ কারিহাল কাফিরূন। (মুসলিম)

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য ব্যতীত স্বীয় অবস্থা থেকে পরিবর্তনের ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ্ ব্যতীত সত্যিকার মা‘বূদ নেই, আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, তাঁর পক্ষ থেকে যাবতীয় নেয়ামত ও অনুগ্রহ তাই তাঁর জন্যই সকল উত্তম প্রশংসা। আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্রিকার মা‘বূদ নেই, তাঁর দ্বীন আমরা একনিষ্ঠভাবে মান্য করি যদিও কাফেরগণ তা অপছন্দ করে।

«سبحان الله»

‘‘সুবহানাল্লাহ’’ ৩৩ বার

অর্থ: আমি আল্লাহর জন্য যাবতীয় দোষ হতে পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

الحمد لله

‘‘আহামদু লিল্লাহ’’ ৩৩ বার

অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

الله أكبر

‘‘আল্লাহু আকবার’’ ৩৩ বার

অর্থ: আল্লাহ্ সবার বড়। অতঃপর বলবেঃ

"لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير" (رواه البخاري و مسلم)

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলক ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর। (তিনবার) (বুখারী - মুসলিম)

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

অথবাঃ সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার ও আল্লাহু আকবার ৩৪ বার। (তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)







আয়াতুল কুরসী

﴿ ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَ‍ُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ ٢٥٥ ﴾ [البقرة: ٢٥٥]

উচ্চারণ: (আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূমু লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম)।

অর্থ: “আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।”

ফরয নামাযের পর উক্ত আয়াতুর কুরসী পড়বে কেননা হাদীসে বর্ণিত হয়েছেঃ ‘‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের শেষে আয়াতুল কুরসী পড়বে তার জন্য মৃত্যু ব্যতীত জান্নাতে যাওয়ার আর কোনো বাধা নেই। (নাসায়ী)

‘‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’’, ‘‘কুল আঊযু বিরাবিবল ফালাক’’ ও ‘‘কুল আঊযু বিরাবিবন্ নাস’’ প্রত্যেক নামাযের শেষে পড়বে।

(আবু দাঊদ, নাসায়ী ও তিরমিযী)

সূরা ইখলাস:

70-(5) بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ ﴿قُلْ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ Ǻ۝ۚ اَللّٰهُ الصَّمَدُ Ą۝ۚ لَمْ يَلِدْ ڏ وَلَمْ يُوْلَدْ Ǽ۝ وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ Ć۝ۧ﴾،

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ)।

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। “বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।”

সূরা ফালাক:

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ ﴿قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ Ǻ۝ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ Ą۝ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ Ǽ۝ وَمِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِي الْعُقَدِ Ć۝ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ Ĉ۝﴾،

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল ‘উক্বাদ। ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা হাসাদ)।

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। “বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে। ‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়। আর অনিষ্ট হতে সমস্ত নারীদের, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।”

সূরা নাস:

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ ﴿قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ Ǻ۝ مَلِكِ النَّاسِ Ą۝ اِلٰهِ النَّاسِ Ǽ۝ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ڏ الْخَنَّاسِ Ć۝ الَّذِيْ يُوَسْوِسُ فِيْ صُدُوْرِ النَّاسِ Ĉ۝ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ Č۝ۧ﴾

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (ক্বুল ‘আউযু বিরাব্বিন্না-স। মালিকিন্না-সি, ইলা-হিন্নাসি, মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স, আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-সি, মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।)।

রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। “বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে; যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।”

«اللهم إنّي أسألك علما نافعا، ورزقا طيبا، وعملا متقبلا» (رواه إبن ماجه)

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসয়ালুকা ইলমান নাফিয়ান ওয়া রিযকান ত্বইয়্যিবান ওয়া আমালান মুতাকাব্বালান। (ইবনে মাজাহ)

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে উপকারী বিদ্যা, পবিত্র রিযিক এবং গ্রহণযোগ্য আমল কামনা করি।

«رب قني عذابك يوم تبعث عبادك» (رواه مسلم)

উচ্চারণ: রব্বি ক্বিনী আযাবাকা ইয়াওমা তুব‘য়াসু ইবাদুকা। (মুসলিম)

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে তুমি তোমার আযাব হতে বাঁচাও যেদিন তোমার বান্দারা উত্থিত হবে।

ফজর ও মাগরিবের নামাযের পর হলে বলবেঃ

«لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كلّ شيء قدير» (رواه البخاري و مسلم)

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলক ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলাকুল্লি শাইয়্যিন কাদীর। (১০ বার)

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। (তিরমিযী, আহমাদ ও নাসায়ী)

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আলো, বাতাস পানি দিয়ে লালন-পালন করে যাচ্ছেন- সে কারণে তার বান্দা হিসেবে প্রতিদিন obligatory duty হিসেবে ফরজ সালাত আদায় করতে হবে। বান্দা হিসেবে দৈনিক পাঁচবার হাজিরা দেয়ার জন্য ফরজ সালাত পড়তে হবে। ফরজ সালাতের বাইরে রয়েছে আরো অনেক ধরনের সালাত যেমন সুন্নাত, ওয়াজিব,মুস্তাহাব, সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, সুন্নাতে জায়িদাহ, চাশতের সালাত, ইশরাকের সালাত, সালাতুত তসবিহ, সালাতুত তওবা,তাহাজ্জুদের সালাত, ইসতিখারার সালাত ইত্যাদি। এসব সালাতের বিভিন্ন মর্যাদা রয়েছে। তবে এর মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বোৎকৃষ্ট সালাত হচ্ছে সালাতুত তাহাজ্জুদ। তাহাজ্জুদের নামাজ নবী করিম সাঃ-এর ওপর ফরজ ছিল। উম্মতের ওপর এটি ফরজ না হলেও সব সুন্নাত নামাজের মধ্যে এটিই উত্তম। তাহাজ্জুদ অর্থ ঘুম থেকে জাগা আর তাহাজ্জুদের সময় হলো ইশার নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে তারপর অর্ধেক রাতের পর নামাজ আদায় করা। সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত থাকে। গভীর রাতে ঘুম থেকে জেগে নামাজ আদায়ে সাওয়াব বেশি। পবিত্র মক্কা ও মদিনায় হারামাইন শারফাইন ও তাহাজ্জুদের সালাতের জন্য আজান দেয়া হয় এবং অতি গুরুত্বের সাথে আদায় করা হয়। পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ হয়েছে, যারা শেষ রাতে ইবাদাত ও প্রার্থনা করেন তাদের প্রশংসাস্বরূপ কিয়ামত দিবসে বলবেনঃ ‘তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত। (সূরা) আযযারিয়াত আয়াত (১৭-১৮)
রাসূল সাঃ-কে সম্বোধন করে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক আরো বলেন, ‘এবং রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ পড়তে থাকুন। এ আপনার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, আপনার প্রভু আপনাকে মাকামে মাহমুদে অধিষ্ঠিত করবেন। (সূরা আল ঈসরা আয়া ৭৯) তানভীরুল মিশকাত গ্রন্থের প্রণেতা ঈমান মহিউস সুন্নাহ বাগবী রাঃ তিরমিজি শরিফের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন হজরত আবু উমামাহ সাঃ ফরমায়েছেনঃ ‘তোমরা রাত জেগে (তাহাজ্জুদ) নামাজ পড়াকে বাধ্যতামূলক করে লও।’ হাদিস নং ১১৫৭/২
তাহাজ্জুদ নামাজ নফসের রিয়াজাত ও তরবিয়াতের এক বিশেষ মাধ্যম। কারণ তখন সুখশয্যা ত্যাগ করেই ইবাদতে মশগুল হতে হয়। এটি মন ও চরিত্রকে নির্মল ও পবিত্র করা এবং সত্য পথে অবিচল রাখার জন্য অপরিহার্য ও অতীব কার্যকর পন্থা। আল কুরআনের সূরা মুজ্জামিলে এর উল্লেখ করা হয়েছে ‘অবশ্যি রাতে ঘুম থেকে ওঠা মনকে দমিত করার জন্য কুব বেশি কার্যকর এবং সে সময়ের কুরআন পাঠ বা জিকর একেবারে যথার্থ।’ (আয়াতঃ ৬ সূরা আল ফুরকান-এর ৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে ‘আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যারা তাদের রবের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।’- ইসলামের প্রাথমিক যুগে কুফর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজিত হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল যে, তারা রাতের শেষ ভাগে আল্লাহতায়ালার মহান দরবারে চোখের পানি ফেলতেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। ‘তারা ছিল কঠিন পরীক্ষায় পরম ধৈর্যশীল, অটল-অবিচল, সত্যের অনুসারী,পরম অনুগত। আল্লাহর পথে ধন-সম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে এবং ভুলত্রুটির ক্ষমাপ্রার্থী। (সূরা আলে ইমরান আয়াত ১৭)
হাদিস শরিফেও তাহাজ্জুদের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থকার সুনানে আহমদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “আবু হোরায়রা রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ-কে বলতে শুনেছি। আফজালুস সালাতি বাদাল মাফরুদাতি সালাতুল লাইলি” অর্থাৎ ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। হাদিস নম্বর ১১৬৭/২। হজরত আবু হোরায়রা রাঃ হতে বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসূল সাঃ ফরমায়েছেন, ‘আল্লাহ প্রতি রাতেই নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন যখন রাতের শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে। তিনি তখন বলতে থাকেন কে আছো যে আমায় ডাকবে, আর আমি তার ডাকে সাড়া দেবো? কে আছো যে আমার কাছে কিছু চাইবে,আর আমি তাকে তা দান করব? কে আছো যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করব? (বুখারি ও মুসলিম)-
শরহে সুন্নাহর বরাত দিয়ে মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থকার আবু সাঈদ খুদরি রাঃ বর্ণিত একটি হাদিসের উল্লেখ করেন। বলা হয়েছে, ‘রাসূল সাঃ ফরমায়েছেন তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ খুশি হন (হাসেন) এক. যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের জন্য ওঠেন এবং নামাজ পড়েন। দুই. জনতা, যারা নামাজের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। তিন. মুজাহিদ যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। (হাদিস নম্বর ১১৬০/২)
অনুরূপ অন্য আরেকটি হাদিস রয়েছে, হজরত জাবির রাঃ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ-কে বলতে শুনেছি। রাতের মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত আছে যদি কোনো মুসলমান তা লাভ করে এবং আল্লাহর কাছে ইহ ও পরকালের কোনো কল্যাণ চায় আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে তা দেন। (মুসলিম)
উপরিউক্ত কুরআন ও হাদিসের বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, সালাতসমূহের মধ্যে তাহাজ্জুদ অতি মর্যাদাকর সালাত। এই সালাত প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর পক্ষেই
আদায় করা উচিত। এই সালাতের মাধ্যমে হয়তো আল্লাহর নৈকট্য লাভ সহজ হবে। সৃষ্টিকর্তার সাথে যখন দূরত্ব কমে যাবে তখন সৃষ্টিকর্তা বান্দার দাবি রক্ষা করতে পারেন।

ফজরের সালাতের জন্য জেগে উঠার কার্যকরী কিছু কৌশল

সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তাআলার জন্য এবং সালাম ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর। আমরা যারা নিয়মিত সালাত আদায় করার চেষ্টা করি, আমাদের সবগুলো সালাত ঠিক থাকলেও ‘ফজরের সালাত’ নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়। অনেকেই অনেক চেষ্টা করেও পারি না ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠতে। কীভাবে করা যায় এ সমস্যার সমাধান? আমি শুধু দু’ একদিনের কথা বলছি না, বলছি প্রতিদিনকার কথা। আসুন জেনে নেই এ ব্যাপারে কিছু কার্যকরী কৌশল।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরা যখন প্রতিদিন সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করি, দিনে কমপক্ষে ১৭ বার, আমরা এই আয়াতটিও তিলাওয়াত করিঃ “আমরা একমাত্র তোমারি ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারি সাহায্য প্রার্থনা করি।” [সূরা আল-ফাতিহাঃ ০৫] আমরা কি সত্যিই আল্লাহর ইবাদত করতে চাই? “অবশ্যই!” তাহলে আল্লাহর সাহায্যও চাই? “হুম!” আবার ফজরের সালাতের জন্যও জেগে উঠতে চাই? “জ্বী, ভাই!” কিন্তু তারপরও আমরা পারি না কেন? কারণ, আমাদের চাওয়ায় আন্তরিকতার অভাব। আপনার কি কখনও ঘুমাতে যাওয়ার মুহূর্তে এমন অনুভূতি হয়েছে যে, আপনি অবশ্যই ফজরের সালাতের জন্য উঠবেন কিংবা আগে থেকেই আপনি জানতেন সেদিন বেশি ঘুমাবেন? নিচের দৃশ্যপট দুটি কল্পনা করার চেষ্টা করুন। আমি মনে করি, আমরা প্রায় সকলেই এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি।

দৃশ্যপটঃ ১
আপনার হৃদয় ঈমানে পরিপূর্ণ, আপনি বিতির পড়েছেন, কিছুটা কোরান তিলাওয়াত-ও করেছেন এবং যদিও আপনার হাতে ফজর পর্যন্ত ঘুমানোর জন্য মাত্র দু’ ঘণ্টা সময় আছে, তারপরও জেগে উঠার ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত। কারণ, আপনি আপনার মন, হৃদয় ও দেহকে প্রস্তুত করে নিয়েছেন। এমনকি মাঝে মাঝে ওয়াক্ত পার হয়ে গিয়ে সালাত মিস করার ভয়ে মাঝ রাতেও ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন। যদি আপনি এ ধরনের কোন ঘটনার সম্মুখীন না হয়ে থাকেন, তবে এমন সময়ের কথা ভাবুন যেদিন আপনাকে খুব ভোরে বাস কিংবা ট্রেন ধরতে হয়েছিল। আর ভাবুন, কীভাবে আপনার মন, হৃদয় ও দেহ সজাগ ছিল। হয়তো অনেক দেরিতে ঘুমিয়েও জেগে উঠেছিলেন বাস কিংবা ট্রেনের জন্য।

দৃশ্যপটঃ ২
আপনার জীবনে হয়তো এমন অনেক দিন আছে যেগুলোতে আপনি প্রকৃতপক্ষেই বেশি ঘুমাতে চান। যার জন্য আপনি আগে থেকেই ‘অতিরিক্ত ঘুমানোর’ পরিকল্পনা করেন। তারপরও আপনি জেগে উঠেছেন, আর তখনই শুরু হয়েছে ‘Snooze Alarm’ এর সাথে যুদ্ধ এবং আধুনিক শয়তানের কৌশল, “আর মাত্র পাঁচ মিনিট…”

এই দুটি দৃশ্যপটের মধ্যে একটি দৃশ্যপট বর্ণনা করে ‘আপনি অবশ্যই ঘুম থেকে জেগে উঠবেন’ আপনার এ ধরনের গভীর মানসিকতার কথা, আর অন্য দৃশ্যপটটি বর্ণনা করে ‘আপনি ঘুম থেকে উঠতে পারবেন না’ এ ধরনের মানসিকতার কথা। কারণ, আপনার অন্তর এটা চায় না, আর আপনিও শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠার চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত নন। নিচে আমি কিছু কৌশলের কথা বর্ণনা করছি যেগুলো আপনাকে সব সময় দৃশ্যপটঃ ১ এর মত সফলতা অর্জনে সাহায্য করবে ইনশা আল্লাহ্।

আধ্যাত্মিক কৌশল
১. আল্লাহকে চেনা : এটা ফজরের সালাতের জন্য জেগে উঠার চাবিকাঠি এবং এক নম্বর কৌশল। আপনি যদি জানেন আপনি কার ইবাদত করছেন, আর এ-ও জানেন যে, তিনি চান আপনি প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে তাঁর ইবাদত করুন, তাহলে আপনি জেগে উঠবেনই! ‘আল্লাহ্’ কে- এ ব্যাপারে আমাদের জ্ঞানের কমতিই আমাদেরকে দৃশ্যপটঃ ২ এর দিকে ধাবিত করে। তাই আপনার প্রভুকে জানুন, আর এটাই আপনার চাবিকাঠি।

২. আন্তরিকতা : ফজরের সালাতের জন্য জেগে উঠার ব্যাপারে আন্তরিক হওন। নিজেকে শুধু এটুকু বলবেন না যে, ‘যদি আমি ফজরের ওয়াক্তে উঠতে পারি তবে ভালো হবে’, বরং আন্তরিকতার সাথে বলুন, ‘আমি ফজরের ওয়াক্তে জেগে উঠবোই ইনশা আল্লাহ্!’

৩. ঘুমাতে যাওয়ার আগে অজুকরা :
Ibn Abbas reported that Allah’s Messenger said:
“Purify these bodies and Allah will purify you, for there is no slave who goes to sleep in a state of purity but an Angel spends the night with him, and every time he turns over, [the Angel] says, ‘O Allah! Forgive Your slave, for he went to bed in a state of purity.”
আপনি কি মনে করেন এ ধরনের একজন মানুষ অতিরিক্ত ঘুমাবে আর ফজরের সালাত মিস করবে?

৪. বিতিরের সালাত ও দোয়া : বিতিরের সালাত আদায় না করে ঘুমাবেন না, আর বিতিরের সালাত আদায়ের সময় আল্লাহর কাছে অনুনয়-বিনয় করুন যাতে তিনি আপনাকে ঘুম থেকে জেগে উঠতে সাহায্য করেন।

৫. সামান্য কোরান তিলাওয়াত করুন : মহা গ্রন্থ আল-কুর’আনের মাধ্যমে দিনের সমাপ্তি অবশ্যই আপনার মনোযোগকে ফজরের সালাতের জন্য জেগে উঠার দিকে নিবন্ধিত করবে। মহানবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমাতে যাওয়ার আগে সূরা আল-সাজদাহ ও সূরা আল-মূলক (৩২ ও ৬৭ নম্বর সূরা) তিলাওয়াত করার পরামর্শ দিতেন।

৬. ঘুমাতে যাওয়ার আগে আল্লাহকে স্মরণ করুন : এটা আমার বর্ণনাকৃত প্রথম পয়েন্টেরই অংশ। আর এখানেই আপনি আপনার সকল অনুনয়-বিনয় আল্লাহর কাছে জানাবেন। প্রথম প্রথম দোয়াগুলো পড়ার জন্য আপনি ছাপিয়ে নিতে পারেন কিংবা দোয়ার বই ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এক বা দু’ সপ্তাহের মধ্যেই দোয়াগুলো আপনার মুখস্থ হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ। আর ঠিক ঘুমিয়ে পড়ার আগেই সেগুলো নিয়মিত পড়বেন।

৭. ফজরের সালাত আদায়কারীদের জন্য ঘোষণাকৃত পুরস্কারগুলোর কথা স্মরণ করুন : মুনাফিকের হাত থেকে বেঁচে থাকা, শেষ বিচারের দিন আলোকিত হওয়া, সারাদিন আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকা, জীবন থেকে অলসতা কেটে যাওয়া, কর্মঠ হওয়া- এই পুরস্কারগুলোর কথা স্মরণ করুন, ইনশা আল্লাহ আপনি জেগে উঠতে পারবেন।

এছাড়া অন্যান্য যে সব কৌশল আপনাকে ফজরের সালাতের জন্য জেগে উঠতে সাহায্য করবে, সেগুলো হলঃ
১. জাগিয়ে দেয়ার জন্য বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের বলাঃ পরিবারের অন্যান্য সদস্য কিংবা বন্ধুদের বলুন আপনাকে জাগিয়ে দিতে। আর পরস্পরকে সাহায্য করুন। যদি আপনি আগে জেগে উঠেন তবে স্বার্থপর না হয়ে অন্যদেরও জাগিয়ে তুলুন।

২. দেড় (১.৫) ঘন্টা ঘুমানোর নিয়মঃ একটি গোপন কৌশল জানিয়ে দিচ্ছি, ঘুম বিজ্ঞানে একটি তত্ত্ব আছে যাতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মানুষ তার ঘুমের একটি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করে দেড় ঘন্টায়। কাজেই আপনি যদি দেড় (১.৫ ঘন্টা) এর গুণীতকে (যেমনঃ ১.৫ ঘন্টা, ৩ ঘন্টা কিংবা ৪.৫ ঘন্টা ইত্যাদি) জেগে উঠতে পারেন, তবে আপনি থাকবেন সতেজ ও পুনরিজ্জ্বীবিত। তা নাহলে আপনার মাঝে আলসেমি থেকে যাবে। তাই ফজরের সালাত যদি ভোর পাঁচটায় হয়, আর আপনি বারোটা বাজে ঘুমান, তবে অবশ্যই আপনার এলার্ম সাড়ে চারটায় দিন। কারণ, এতে আপনি সাড়ে চার ঘন্টা ঘুমাতে পারবেন (অবশ্য ঘুম আসতে আপনার যদি সময়ের প্রয়োজন হয় তবে তা যোগ-বিয়গ করে নিবেন)।

৩. দুপুরে সামান্য ভাত ঘুম দিনঃ আরেকটি কৌশল, যা নেয়া হয়েছে সুন্নাহ ও অনেকের পরামর্শ থেকে, আর তা হল দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর সামান্য ভাত ঘুম দেয়া। মাত্র আধ ঘন্টার ঘুমই আপনাকে করে তুলবে উজ্জীবিত।

কৌশলগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন, ইনশা আল্লাহ আপনি সফল হবেনই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হিদায়াত দান করুক এবং সঠিকভাবে দ্বীনকে বোঝার ও মানার তৌফিক দান করুক। আমীন।

নামাযে মনোযোগ বৃদ্ধির উপায়

ঈমান আনয়নের পর একজন মুসলিমের উপর সর্বপ্রথম যে দায়িত্বটি বর্তায় তা হলো নামাজ। আল্লাহর একাত্ববাদরে স্বীকৃতি দিয়ে একমাত্র তারই জন্য একমাত্র তারই নিকট নির্ধিদ্বায় মাথা নত করে দেওয়া প্রতিটি মুসলামানের অবশ্য কর্তব্য। কিভাবে নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়েই এই লেখা।

অনেক মুসলিম ভাই প্রায়ই বলে থাকেন নামাজের সময় আমাদের মন স্থির থাকে না, নানা ধরণের চিন্তা আমাদের মনে এসে ঘুরপাক খায়, অনেক সময় আমরা কত রাকাত পড়লাম তাও ভুলে যাই। এর প্রধানতম কারণ হচ্ছে, নামাজে আমরা যা পড়ছি তা আমরা শুধু উচ্চারণই করে যাচ্ছি কিন্তু কেন করছি তা নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ হয়ে উঠছে না। নামাজের শুরুতে আমরা সবাই ‘আউযুবিল্লাহ…..’ ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে থাকি। আসুন এই দুটির মর্মার্থ জেনে নিই। ইনশাল্লাহ, আমাদের নামাজের মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।
«أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ»
অর্থ: আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে।

এর অর্থ হলো: আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি, তাঁর দরবারে নিরাপত্তা কামনা করি এই মানব শুত্রু বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট থেকে, যাতে, সে আমার ধর্মীয় বা পার্থিব কোন ক্ষতি সাধন করতে না পারে, আমি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছি তা সম্পাদনে সে যেন আমাকে বাধা দিতে না পারে এবং যা নিষিদ্ধ তার প্রতি সে যেন আমাকে উদ্বুদ্ধ করতে না পারে। কেননা, যখন বান্দাহ নামায, কুরআন তেলওয়াত বা অন্য কোন কল্যাণকর কাজের ইচ্ছা পোষণ করে থাকে, তখন এই শয়তান তাকে বিভ্রান্ত করার জন্য অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠে। আর, তা এই জন্যে যে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ব্যতিরেকে আপনার পক্ষে শয়তানকে দূর করার কোন উপায় নেই।

وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“যদি কখনো শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তাহলে তুমি আল্লাহ তায়ালার কাছে আশ্রয় চাও; অবশ্যই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ”। (সূরা হা-মীম আস সাজদা: ৩৬)

সুতরাং আপনি যখন আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবেন এবং তাঁকে আঁকড়ে ধরবেন তখন তা নামাজের মধ্যে আপনার আন্তরিক উপস্থিতি বা একাগ্রচিত্ত হওয়ার একটি প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অতএব, আপনি এই বাক্যের মর্মার্থ ভালভাবে অনুধাবন করবেন এবং অধিকাংশ লোকের ন্যায় শুধু মুখে মুখে তা ব্যক্ত করে ক্ষান্ত হবেন না।

بِسْمِ اللّهِ
‘বিসমিল্লাহ’ (আল্রাহর নামে) এর অর্থ হলো: আমি একাজে-পড়া, দু’আ বা অন্য কিছুই হোক নিয়োজিত হলাম আল্লাহর নামে, আমার শক্তি সামর্থের বলে নয়, বরং একাজ সম্পাদন করতে যাচ্ছি আল্লাহ পাকের সাহায্যে, তাঁর কল্যাণময় ও মহান নামরে বরকত কামনা করে। ধর্মীয় ও পার্থিব প্রতিটি কাজের প্রারম্ভে এই ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হয়। সুতরাং আপনি মনে করবেন যে, আপনার এই বিসমিল্লাহ পড়া কেবল আল্লাহর সাহায্য নিয়ে শুরু হচ্ছে, স্বীয় শক্তি সামর্থের তোয়াক্কা করে নয়। যেমন: আপনি কোন কাজ শুরু করতে গেলেন তখন আপনি ধারণা করেন আমার টাকা আছে, তাই আমার সামর্থ আছে আমি এই কাজটি করতে পারব; আপনি টাকার উপর ভরসা করলেন। আবার কোন একটি কাজ করতে গেলেন তখন ভাবলেন অমুক ব্যক্তি আমাকে সাহায্য করবে, আমি কাজটি করতে পারবো অর্থাৎ আপনি ঐ ব্যক্তিটির উপর ভরসা করলেন। অর্থাৎ স্বীয় শক্তি সামর্থের উপর ভরসা করে কাজে অগ্রসর হচ্ছেন, আল্লাহর উপর ভরসা করে নয়, যা শিরকের নামান্তর! কারণ, বিসমিল্লাহ অর্থই হচ্ছে আল্লাহর নামে, অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করেই কাজটি শুরু করতে হয়, তিনিই একমাত্র কল্যাণদাতা, তিনি সামর্থ দিয়েছেন বলেই আমি কাজটি করতে পারছি; এই ভরসা পাওয়ার যোগ্য একমাত্র আল্লাহ এখন সেখানে যদি আপনি অন্য কারো বা কোন বস্তুর উপর ভরসা করেন তখন আপনি সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার বানালেন।

তাই যখন বিসমিল্লাহ বলবেন, আপনার অন্তরে আল্লাহর উপস্থিতি উপলব্ধি হবে যা যাবতীয় কল্যাণ লাভের পথে প্রতিবন্ধক সমূহ দূরীকরণে সহায়ক হবে, আপনার কাজে মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে কারণ আপনি একমাত্র আল্লাহকে ইবাদতের একমাত্র অংশীদার বলে বিশ্বাস করেন, আর আল্লাহর নামে কাজ শুরু করে আপনি তারই বাস্তব স্বীকৃতি দিলেন।

الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
অর্থ: “পরম করুণাময় অতি দয়ালু”
রহমত থেকে গুণবাচক দুটি নাম। তন্মধ্যে একটি অপরটির চেয়ে অধিকতর অর্থবহ। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন: এ গুণবাচক নাম দুটো অতি সূক্ষ্ম, তন্মধ্যে একটি অপরটির চেয়ে অধিকতর সূক্ষ্ম অর্থাৎ অধিক রহমত সম্পন্ন।

এখন থেকে নামাজ তথা কোন কাজ শুরুর প্রারম্ভে এই বিষয়গুলো উপলব্ধি করবেন ইনশাল্লাহ, নামাযে আপনাদের মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ...
পড়ে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করতে হবে।
হাদীসে আছে যে সূরা ফাতিহার এক এক অংশ তিলাওয়াত
করার সাথে সাথে আল্লাহ এর জওয়াব দেন। এ হাদীসের
কথাগুলো এমন আবেগময় ভাষায় বলা হয়েছে যা বান্দাহর
মনে গভীর দোলা দেয়। হাদীসটি নিম্নরূপ :
হাদিসটির অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেলন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি :
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি নামাযকে আমার ও আমার
বান্দাহর মধ্যে দুভাগে ভাগ করেছি। আর আমার বান্দাহ
আমার নিকট যা চায় তাই পাবে।
বান্দাহ যখন বলে, ‘‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।”
অর্থ :যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল
সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।
তখন আল্লাহ বলেন , “ আমার বান্দাহ
আমার প্রশংসা করল।”
যখন বান্দাহ বলে “আর রাহমানির রাহীম”।
অর্থ :যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
তখন
আল্লাহ বলেন আমার বান্দাহ আমার গুণ গাইল”
যখন বান্দাহ বলে “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন ”
অর্থ :যিনি বিচার দিনের মালিক।
তখন
আল্লাহ বলেন “আমার বান্দাহ আমার গৌরব
বর্ণনা করল”
যখন বান্দাহ বলে, “ইয়্যাকা না বুদু ওয়া ইয়্যাকানাসতাঈন
অর্থ :আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত
করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য
প্রার্থনা করি।
তখন আল্লাহ বলেন “এ বিষয়টা আমার ও আমার
বান্দাহর মাঝেই রইল । আর আমার বান্দাহর জন্য তাই
যা সে চাইল (অর্থাৎ আমার ও আমার বান্দাহর মধ্যে এ
চুক্তি হলো যে সে আমার কাছে চাইবে, আর
আমি তাকে দেব)।
যখন বান্দাহ বলে “ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম
সিরাতাল্লাযীনা আন আমতা আলাইহিম গাইরিল
মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ দোয়াললীন”
অর্থ :আমাদেরকে সরল পথ দেখাও,
সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত
দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার
গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।"
তখন আল্লাহ বলেন এটা আমার বান্দাহর জন্যই রইল
আর আমার বান্দাহর জন্য তা ই যা সে চাইল।”
আমীন।

মহান আল্লাহ আমাদের শয়তান ও তার অনুসারীদের, বিভ্রান্তকারীদের, বিদআতীদের এবং শিরকপূর্ণ কথা, কাজ ও চিন্তা থেকে হিফাজত করুন। আমীন।

মেসওয়াক করার ফযীলত

একথা আমাদের সকলের জানা যে, অধিকাংশ পেটের অসুখ দাত ময়লা থাকার কারনে হয়। তাছাড়া দৃষ্টি শক্তির সাথেও দাঁতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের মতে ফ্লোরাইড ও অন্যান্য উদ্ভিদ জাতীয় পদার্থ দাঁত ও মাঢ়ী সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বাজারের সকল টুথপেষ্ট ও টুথ পাঊডার প্রস্তুত কারক কোম্পানী টুথপেষ্টে ফ্লোরাইড ও মাউথওয়াশ ব্যবহার করে থাকেন। আমরা এসকল দ্রব্য আমরা অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে গর্বের সাথে ব্যবহার করে থাকি। অথচ দাঁতের সুরক্ষার জন্য ফ্লোরাইড সহ অন্যান্য সকল উপাদান মেসওয়াকের মাঝে প্রচুর পরিমানে আছে।

আমাদের অনেকেরই মাঝে একটা ভুল ধারনা আছে যে মেসওয়াক করা খালি পুরুষ ব্যক্তিদের জন্য সুন্নত। এটা আসলে ভুল। সকল উম্মুল মুমেনীনরা ও সকল মহিলা সাহাবীরা মেসওয়াক করতেন। মেসওয়াক করা ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্যই সুন্নত।

শরীয়তের পরিভাষায় ৫ ওয়াক্ত সালাত/নামাযের পূর্বে, ঘুম থেকে উঠার পর ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে, ভাত খাওয়ার পরে যে কোন কাঁচা গাছের ডাল দ্বারা দাত পরিস্কার করাকে মেসওয়াক করা বলে। আপনি যদি টুথপেষ্ট দিয়ে দাত ব্রাশ করেন তাইলে শুধু মাত্র মুখ পরিস্কার করার সুন্নত আদায় হবে কিন্তু টুথপেষ্ট দ্বারা দাত ব্রাশ করার আগে বা পরে আপনি যে কোন কাচা গাছের ডাল দ্বারা মেসওয়াক করলে মুখ পরিস্কার করা ও মেসওয়াক করা উভয়েরই সুন্নতই আদায় হবে। পিলু/আরক গাছ, যয়তুন গাছের কাঁচা ডাল দ্বারা মেসওয়াক করা সুন্নত। উপমহাদেশে সাধারণত নিম গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে পাকিস্তান, সৌদিআরব থেকে আমদানীকৃত যয়তুন, পিলু গাছের মেসওয়াক পাওয়া যায়। এদের মাঝে প্যাকেট বিহীন যে যয়তুন গাছের মেসওয়াক টা বিক্রি করা হয় দাম ২০ টাকা আপনারা এটা দ্বারা আপনারা মেসওয়াক করবেন। এটা খুব ভাল আমি নিজেও এটা দ্বারা মেসওয়াক করি। প্রত্যেক হাদিসের কিতাবে মেসওয়াক অধ্যায় নামক একটা স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “ যে নামাযের জন্য মেসওয়াক করা হয় তা মেসওয়াক বিহীন নামায অপেক্ষা ৭০ গুন বেশি উত্তম।” (বায়হাকী, মা’আরেফুল হাদীস) রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন - “ যদি আমার উম্মতের জন্য কঠিন হওয়ার আশংকা না থাকতো তবে আমি তাদের উপর প্রত্যেক নামাযের পূর্বে মেসওয়াক করা ওয়াজিব করে দিতাম। ” (বুখারী, মুসলিম)

হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন- “রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে প্রবেশের পর সর্বপ্রথম যে কাজটি করতেন, তা ছিল মেসওয়াক করা। তিনি ওযূ ও নামাযের সময়ও মেসওয়াক করতেন। ”

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন- “ জিবরাঈল আলাইহিস সাল্লাম যখনই আমার কাছে আসতেন, তখনই মেসওয়াক করার কথা বলতেন। এ বারংবার তাগিদের কারণে আমার আশংকা হয় যে, আমি আমার মুখের অগ্রভাগ মেসওয়াক করতে করতে ক্ষয় না করে ফেলি”- (মুসনাদে আহমদ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মৃত্যুর কিছুক্ষন পূর্বেও মেসওয়াক করেছেন। সীরাতে ইবনে হিশামে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর কিছুক্ষণ পূর্বে আব্দুর রহমান ইবনে আবুবকর রাযিয়াল্লাহু আনহু একটি কাচা মেসওয়াক হাতে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দেখতে আসেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দৃষ্টি বারবার ঐ মেসওয়াকে দিকে পড়তে লাগলো। হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা তখন বুঝতে পারলেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেসওয়াক করতে চাচ্ছেন। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা তখন ঐ মেসওয়াকটাকে চিবিয়ে নরম করে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুখে দিলেন। হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন- “ সেই আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সকল স্তুতি ও প্রশংসা যিনি তাঁর রাসুলের অন্তিম মুহূর্তে তার ও আমার মুখের থুথু মিলিত করেছেন। [ মুসনাদে আহমদ ]

তাইলে আমরা সবাই বুঝতে পেরেছি যে মেসওয়াক করা কতবড় একটি সুন্নত যে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মৃত্যুর কিছুক্ষন পূর্বেও মেসওয়াক করেছেন। আশা করি আপনারা আজকে থেকে সবাই নিয়মিত ভাবে মেসওয়াক করবেন।